Amardesh
আজঃ মঙ্গলবার ॥ ২৭ শ্রাবণ ১৪১৬ ॥ ১১ আগষ্ট ২০০৯ ॥     আপডেট সময়ঃ ভোর ০৬ টা : ৩৩ মিনিট
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 বিশেষ ফিচার
 
আবহাওয়া
আজ বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্তুায়ী দমকা ও ঝড়োহাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে৷ সেই সঙ্গে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে৷ দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে৷ শুক্রবার ঢাকার সর্বোচচ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৮ এবং সর্বনিম্ন ২৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ দেশের সর্বোচচ তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ৩৪.৯ এবং সর্বনিম্ন যশোরে ২৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ সকাল ১০টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৩ এবং সন্ধ্যা ৭টায় ৮৭ শতাংশ৷ আজ সূর্যাস্- ৭টা ৩৭ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোস্- ৬টা ৩১ মিনিটে৷
 
 
আর্কাইভ: --
 

পায়ে হেঁটে টহল দেয় বিডিআর

অলিউল্লাহ নোমান উত্তর সীমান্ত থেকে ফিরে - ২০০৯-০৮-১১
সীমান্ত পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (বিওপি) সীমিত অসত্র নিয়ে কয়েকগুণ বেশি শক্তিধর ভারতীয় বিএসএফের মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করছে বিডিআর। কাঁটাতারের বেড়া, সীমান্তে পাকা রিংরোড, পর্যাপ্ত যানবাহন ও উন্নত অসেত্রর অধিকারী বিএসএফের মোকাবিলায় বিডিআরের মনোবলই ছিল মূল শক্তি। বিডিআরের সেই মনোবল এখন আর অটুট নেই। বিওপিগুলোর যানবাহন শূন্যতা, প্রয়োজনীয় লজিষ্টিক সাপোর্টের অভাব ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিডিআরের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। উত্তরাঞ্চলের ৫টি জেলার সীমান্ত ঘুরে দেখা গেছে একেবারে সীমান্তের কাছে অজপাড়াগাঁয়ে অবস্থিত বিওপিগুলোয় কোনো রকমের যানবাহন নেই। টহলের জন্য নেই রাস্তার সুবিধা। সীমান্ত পর্যবেক্ষণের জন্য নেই কোনো টাওয়ার। মানুষের বাড়ির উঠান, কৃষকের ক্ষেতের আইল, গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে নিয়মিত মাইলের পর মাইল হেঁটে সীমান্তে টহল দেয় বিওপিগুলোতে কর্মরত বিডিআর জওয়ানরা। উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত এলাকা ঘুরে এই টহলের দৃশ্য দেখা গেছে। অপরদিকে এই সীমান্তগুলোর অপরদিকে ভারতীয় বিএসএফ বাহিনীর বিওপিগুলোতে রয়েছে গাড়ি, পিকআপ, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল। সীমান্তে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে বিএসএফ টহলের জন্য রয়েছে পাকা রিংরোড। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বিডিআরদের মতে, এই রিংরোড শুধু টহলের সুবিধাই দেয় না, রণকৌশলের দিক থেকেও গুরুত্ব বহন করে। যুদ্ধের সময় রিংরোডকে সামনে রেখে সুবিধাজনক অবস্থান নিতে পারবে বিএসএফ। সে তুলনায় বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো রকমের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই। সীমান্ত এলাকার লোকজন জানান, বিডিআর হেঁটে একদিকে টহলে গেলে অন্যদিক নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। চোরাচালানির খবর পেলেও বিডিআর হেঁটে পৌঁছতে না পৌঁছতেই নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। এছাড়া বিএসএফ মাঝেমধ্যেই নোম্যান্স ল্যান্ডে প্রবেশ করে সীমান্ত এলাকার মানুষের গরু-ছাগল নিয়ে যায়। বিডিআর খবর পেয়ে পৌঁছতে না পৌঁছতে তারা চলে যায়। অথচ কোনো কোনো জায়গায় বিডিআরের একটি বিওপির বিপরীতে বিএসএফের ৬ থেকে ৭টি পর্যন্ত বিওপি রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ১০০ থেকে ২০০ গজ অন্তর উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রয়েছে। প্রতিটি টাওয়ারে ৩ থেকে ৪ জন করে বিএসএফ সার্বক্ষণিক ষ্ট্যান্ডিং ডিউটি পালন করে। রাতের বেলা পর্যবেক্ষণের জন্য টাওয়ারগুলো থেকে হাজার ওয়াটের আলো জ্বালানো হয় বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে। উত্তরাঞ্চলের উল্লিখিত জেলাগুলোর সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন কোম্পানি সদরের কমান্ডারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা জিপ অথবা পিকআপ পাওয়ার কথা থাকলেও পাচ্ছেন না। কাগজ-কলমে কোম্পানি সদর পিকআপ অথবা জিপ প্রাপ্য। কিন্তু ৫ জেলা শুধু তেঁতুলিয়া কোম্পানি সদরে একটি জিপ দেখা গেছে। অন্যান্য কোম্পানি সদরগুলোতে পুরনো মডেলের ৮০ সিসির একটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি লক্কড়ঝক্কড় মার্কা বাইসাইকেল দেখা গেছে। কোম্পানি সদরের কমান্ডাররা জানান, মোটরসাইকেলগুলোয় একজনের বেশি চলাচল করা যায় না। অনেক সময় রাস্তায় বন্ধ হয়ে যায়। পুরনো হওয়ার কারণে অনেক কোম্পানি সদরের মোটরসাইকেল মাসের অধিকাংশ সময় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। তা দিয়েই সীমান্ত রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বিডিআরকে। সীমিত লজিষ্টিক সাপোর্ট নিয়ে বিডিআরের একটি সীমান্ত পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প বা বিওপির সদস্যরা বিএসএফের একাধিক ক্যাম্পের মোকাবিলা করে থাকে। বিডিআরের একটি বিওপির তুলনায় দ্বিগুণের বেশি সৈন্য রয়েছে বিএসএফের প্রতিটি বিওপিতে। একটি বিওপি থেকে অপর একটি বিওপি পর্যন্ত ৭ থেকে ১২ মাইল এলাকা সীমান্ত পাহারা দিতে হয় বিডিআরকে। তারা হেঁটে নিয়মিত টহল দিলেও ভারতের বিএসএফ গাড়ি হাঁকিয়ে সীমান্তে টহল দেয়। দেশের উত্তরের সর্বশেষ সীমান্ত বাংলাবান্দা জিরো পয়েন্টের কাছে অবস্থিত বাংলাবান্দা বিওপির টহল এলাকা হচ্ছে ১০ মাইল। বিপরীতে ভারতের লালদাসপাড়া, ফুলবাড়ী ও নারায়ণজুতে একটি বিওপি রয়েছে। বিএসএফের তিনটি বিওপির অধীনে রয়েছে ১০০ গজ অন্তর উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। প্রতিটি টাওয়ারে ৩ থেকে ৪ জন ষ্ট্যান্ডবাই ডিউটি পালন করছে। তেঁতুলিয়ার আরেকটি বিওপি হচ্ছে মাগুরমারী সীমান্ত ফাঁড়ি। এই ফাঁড়ির বিপরীতে বিএসএফের রয়েছে ভোলাহাট ও চাউলহাটি ফাঁড়ি। নীলফামারীর ডোমারে চিলাহাটি সীমান্তে ডাঙ্গাপাড়া বিওপির বিপরীতে ভারতের খালপাড়া ও দেবীগঞ্জ বিওপি। এখানে ২০০ গজ অন্তর বিএসএফের উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রয়েছে। এই বিওপিটির সীমান্তে কোনো রকমের রাস্তা নেই। প্রায় ১০ মাইল সীমান্ত এলাকা পাহারার দায়িত্ব হচ্ছে এখানে কর্মরত ৩০ জন জওয়ানের। এই বিওপির একজন বলেন, একদিকে ডিউটিতে গেলে আরেক দিকে খবর থাকে না। সীমান্ত এলাকায় কিছু ঘটলে মোবাইলের কল্যাণে সাধারণ মানুষ দ্রুত জানাতে পারলেও হেঁটে দ্রুত পৌঁছানো যায় না। লালমনিরহাটের সর্বশেষ অঞ্চল হচ্ছে পাটগ্রামের দহগ্রাম ছিটমহল। সবচেয়ে বড় এ ছিটমহল পাহারার জন্য বিডিআরের ৩টি ক্যাম্প অবস্থিত। বিপরীতে বিএসএফের রয়েছে ১৮টি ক্যাম্প। পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় বুড়িমারী কোম্পানি সদর। এই কোম্পানি সদরেও রয়েছে ৮০ সিসির পুরনো একটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি লক্কড়ঝক্কড় মার্কা বাইসাইকেল। বিপরীতে বিএসএফের রয়েছে ৩টি কোম্পানি সদর। বিএসএফের অত্যাচারে পাটগ্রাম সীমান্ত এলকায় মানুষ আতঙ্কে দিন কাটায়। গত ৬ মাসে বিএসএফের গুলিতে এ এলাকায় ৪ বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছে। লালমনিরহাটের আরেক সীমান্ত উপজেলা হাতিবান্দা। এ উপজেলার শিংমারী সীমান্তে অমীমাংসিত এলাকায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইলে বছরের পর বছর ধরে বিরোধ লেগে আছে। এ এলাকায় বছরে একাধিকবার বিএসএফ ও বিডিআরের মধ্যে গোলাগুলি হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সীমান্ত নিয়ে বিরোধ থাকায় পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকজন আতঙ্কে দিন কাটায়। লালমনিরহাটের সদর উপজেলার মোগলহাট সীমান্তে অবস্থিত বিডিআরের কোম্পানি সদরের বিপরীতেও রয়েছে ভারতের বিএসএফের গিতালদহ, মদনাগড়া ও পঞ্চদজি কোম্পানি সদর। মোগলহাটের পরিত্যক্ত রেলষ্টেশনের শেষ মাথায় ৮২৯নং সীমান্ত পিলার। এখানে ধরলা নদী বাংলাদেশ ও ভারতকে বিভক্ত করেছে। এই কোম্পানি সদরের এক জওয়ান জানান, তাদের কোম্পানির জন্য দেয়া মোটরসাইকেলটিরও করুণ দশা। মাঝেমধ্যে উঁচু রাস্তায় উঠতে হলে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কাতে হয়। লালমনিরহাটের আরেক সীমান্ত উপজেলা আদিতমারি। এ উপজেলার সীমান্ত এলাকার দুর্গাপুর বিওপির সীমান্ত হচ্ছে ৮ মাইল। টহল দিতে শুধু কাঁচা রাস্তাই নয়-খাল-বিলও পার হতে হয়। দুর্গাপুর বিওপির একজন জওয়ান জানান, তাদের বিপরীতে রয়েছে ভারতের শিঙ্গিমারী, বার্তার, মদনাকুড়া ও পঞ্চদজি বিওপি। প্রতিটি বিওপিতে বিএসএফের ৫০ জনের বেশি লোক রয়েছে। তাদের জন্য গাড়ি, নদী পারাপারের জন্য সিপডবোটসহ প্রয়োজনীয় লজিষ্টিক রয়েছে। তিনি জানান, বিডিআর সদস্যদের খাল পার হতে হলে গ্রামের মানুষকে নৌকার জন্য অনুরোধ জানাতে হয়। কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বরাইবাড়ী বিওপি থেকে বের হয়ে সীমান্ত টহল দিতে ৫টি ছোট-বড় খাল অতিক্রম করতে হয়। বিডিআরের নিজস্ব নৌকা না থাকায় এসব খাল পর হওয়ার সময় গ্রামের মানুষের নৌকার অপেক্ষায় থাকতে হয়। এসব সীমান্তে সরেজমিন দেখা গেছে, বিডিআর সদস্যরা মাইলের পর মাইল কাদা-পানিতে হেঁটে সীমান্ত টহল দিচ্ছেন। পাশেই রিংরোড দিয়ে গাড়ি হাঁকিয়ে সীমান্তে টহল দিচ্ছে বিএসএফ। পর্যবেক্ষণের দৃশ্য দেখিয়ে বিভিন্ন বিওপির জওয়ানরা বলেন, 'আল্লাহ আমাদের দুটি পা দিয়েছেন। আল্লাহর রহমত, বিডিআরের পা ও গ্রামের মানুষের ভালোবাসা এবং সহযোগিতাই হচ্ছে সীমান্ত রক্ষায় মূল প্রেরণা। তেঁতুলিয়ার মাগুরমারী বিওপির একজন জওয়ান ভারতের বিএসএফের পর্যবেক্ষণ টাওয়ার আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলেন, বিডিআরের এ ক্যাম্পের বিপরীতে বিএসএফের ৩টি ক্যাম্প রয়েছে। তারপরও এই পর্যবেক্ষণ টাওয়ারগুলোয় সার্বক্ষণিক ৩ থেকে ৪ জন করে ষ্ট্যান্ডবাই ডিউটি করছে। তিনি আরও বলেন, তাদের হাঁটতে হয় না। একটি ফাঁকা গুলি ফুটলেও মুহূর্তের মধ্যে বিএসএফের কয়েকটি গাড়ি এসে পৌঁছে যায়। আর সীমান্তে কোনো ঘটনা ঘটলে বিডিআরকে মাইলের পর মাইল পায়ের ওপর ভর করে সেখানে পৌঁছতে হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিডিআরের এই কষ্ট কেউ দেখে না, কষ্টের কথা কেউ শুনতেও চায় না। তেঁতুলিয়া বাংলাবান্দা বিওপির এক জওয়ান টহলে কষ্টের বর্ণনা দিয়ে বলেন, বিডিআর নিজের ঘরে পরবাসী। নিজেরা গায়ে খেটে কাজ করি, কর্তৃত্ব করেন অন্যরা।

 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?
 
ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি নিষিদ্ধ ও শিক্ষকদের কনসালটেন্সি নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি৷ আপনি কি এটা সমর্থন করেন?